প্রথম অধ্যায়: নিষিদ্ধ বায়ু

নিষিদ্ধের উত্থান বাহান্ন হার্টজ 4718শব্দ 2026-02-09 03:38:01

        **প্রথম অধ্যায়: নিষিদ্ধ বায়ু**

রাত নামছে। ঘন কালো পর্দার আড়ালে মিলিয়ে গেল সূর্যের শেষরক্ত আভা। আকাশের আলো ম্লান হয়ে এল। সুলোর উদাস মুখে ভিজে ভিজে বাতাস এসে পড়ল। নাকে গন্ধ নিতেই মেশানো সমুদ্রের কাঁচা গন্ধ।

স্কুল ছুটির পর সুলো মলিন নীল ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে সমুদ্রের ধার দিয়ে হাঁটছিল। ক্লাস টিচারের কথাগুলো যেন এক গাদা বোঝা হয়ে চেপে বসেছিল তার মনে। এ কারণে বিকেলের সব তত্ত্বের ক্লাসগুলো সে কেটেছে শুধু বসে বসে, কিছুই মাথায় ঢোকার চেষ্টা করেনি।

এটাই প্রথমবার সুলো ভাবনায় ডুবল নিজের জীবনপথ নিয়ে। সুলোর পরিবার খুব সাধারণ। বাবা গাড়ির গ্যারেজে কাজ করেন, মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা আয়। মা সংসারের সুবিধার্থে সেলাইয়ের দোকানে খণ্ডকালীন কাজ করেন, মাসে তিন হাজার টাকার মতো আয় হয়। সুলোর ছোট ভাই স্কুলে পড়ে, ছোট বোনও। পাঁচজনের সংসার পুরোটাই বাবা-মায়ের আয়ের ওপর চলে।

খুব অভাবী সংসার না হলেও সঞ্চয় করার মতো কিছু থাকে না।

সেদিন সকালে ক্লাস টিচার একটি ক্লাস নিয়েছিলেন—এইচএসসির শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি করার মতো এক ক্লাস। এবং সেইসঙ্গে ছাত্রদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেন।

এই পৃথিবীতে যোদ্ধা আর সাধারণ মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছে, এটা আর গোপন নয়। ত্রিশ বছর আগে যখন কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় যুদ্ধবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয় মূলধারায় পরিণত হয়, তখন থেকেই যোদ্ধারা জনসমক্ষে আসতে শুরু করে। তবে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও টিকে গেছে—কিছু যুদ্ধবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিশে গেছে, কিছু স্বতন্ত্র ছিল, শুধু যুদ্ধবিদ্যা বিষয় খুলেছে।

অর্থাৎ ত্রিশ বছর আগে থেকেই চীনের শিক্ষাব্যবস্থায় যোদ্ধা তৈরির উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আর মাধ্যমিক শিক্ষা হচ্ছে যুদ্ধবিদ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রক্ত সরবরাহের মূল মাধ্যম। এ কারণে উচ্চমাধ্যমিকের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে যোদ্ধাদের জগতের সংস্পর্শে আসে।

যে কেউ যোদ্ধা হতে পারে না। যোদ্ধা হতে হলে প্রথমে দরকার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু—যা যোদ্ধার আত্ম-উদ্বোধনের উপাদান। আধ্যাত্মিক বস্তুতে থাকা আধ্যাত্মিক শক্তি দিয়েই সাধারণ মানুষকে আধ্যাত্মিক দেহে রূপান্তর করতে হয়। আধ্যাত্মিক দেহ তৈরি হলে তবেই নিজে নিজে চর্চা করতে পারে।

এই রূপান্তর শতভাগ সফল হয় না। একবার ব্যর্থ হলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তি যোদ্ধা হওয়ার উপযুক্ত নয়, এবং চিরতরে যোদ্ধা হওয়ার সুযোগ হারায়।

এ কারণে আধ্যাত্মিক বস্তুর গুরুত্ব অপরিসীম। চীনের সরকারি সংস্থা এই বস্তুর ওপর কড়া নজর রাখে। বাজারে কেবল সরকারি দোকানেই কেনাবেচার সুযোগ থাকে। তবে দাম অনেক বেশি। সাধারণ মানের কোনো আধ্যাত্মিক বস্তুর দাম ১০ থেকে ২০ হাজার ইউয়ানের মধ্যে।

সাধারণ পরিবারের পক্ষে এই মূল্য বহন করা কঠিন। সুলোর পরিবারেরও তাই। তবে সরকারের নীতি আছে—উচ্চমাধ্যমিকের যোদ্ধা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাঁচ হাজার ইউয়ানের ভর্তুকি পায়। এই অর্থ আধ্যাত্মিক বস্তু কেনার জন্য বরাদ্দ। শিক্ষার্থী শুধু আবেদন করলেই এবং আরও পাঁচ হাজার ইউয়ান জমা দিলেই সাধারণ মানের একটি আধ্যাত্মিক বস্তু পায়।

সুলোর পরিবার তার জন্য ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার ইউয়ান জমিয়েছিল। এটাই ছিল তাদের পুরো সঞ্চয়। সুলো ভাবছিল আধ্যাত্মিক বস্তু পাবে, যোদ্ধা হবে। কিন্তু সেদিন সকালের ক্লাসে শিক্ষক একটা ঘোষণা দিলেন—জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ হাজার ইউয়ানের ভর্তুকি কমিয়ে তিন হাজার করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন শিক্ষার্থীকে নিজে জমা দিতে হবে আরও সাত হাজার ইউয়ান।

তার মানে সুলোর পরিবারের জমানো পাঁচ হাজার ইউয়ান দিয়ে আর আধ্যাত্মিক বস্তু কেনা যাবে না। মানে সুলোর যোদ্ধা হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল। মানে তাকে ভবিষ্যতে কারিগরি পথেই যেতে হবে।

সেদিন বিকেলে সুলোর মন খুব খারাপ ছিল। কোনো ক্লাসে মন বসেনি। তার মধ্যে একধরনের হালকা বিষাদ, অসহায়ত্ব, আরো বেশি অভিমান।

স্কুল ছুটির পর সুলো বাড়ি ফেরার পথ না ধরে একা একা চলে গেল সমুদ্রের ধারে। উদ্দেশ্যহীনভাবে পায়চারি করতে লাগল। সমুদ্রের বাতাসে মন একটু হালকা হবে ভেবেছিল।

হলুদ বালি পায়ের নিচে নরম। আকাশ আজও চিরচেনা নীল। সমুদ্রের বাতাস ছোট ছোট ঢেউ এগিয়ে দিচ্ছে কূলে। ঝিরিঝিরি হাওয়া। একঘেয়ে আওয়াজ।

নিম্নমনা সুলো হাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে চুল উড়িয়ে দিতে দিতে গন্ধ নিচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর তার মনে হলো গন্ধটা আজ বেশি তীব্র। আর তার সঙ্গে মেশানো আরেক রকম গন্ধ—না তা অপছন্দের দুর্গন্ধ, না ফুলের সুবাস। এক অদ্ভুত গন্ধ।

তারপর সে টের পেল, মুখে লাগা বাতাসের উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে। প্রথমে হালকা গরম, তারপর গরম থেকে গরমতর, অবশেষে দগ্ধ করার মতো গরম।

সুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। পালাতে চাইল। কিন্তু বাতাস তাকে চারদিক থেকে জড়িয়ে ধরেছে। দগ্ধ গরম হাওয়া যেন তাকে গলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। তীব্র ব্যথায় সে আর নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না।

সে ভাবল নিশ্চয়ই তার চামড়া পুড়ে গেছে। ধীরে ধীরে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞান হওয়ার আগে শেষ চিন্তাটা ছিল—এই হাওয়া যেন বিষাক্ত। খুব বিষাক্ত।

অজ্ঞান অবস্থায় সুলো দেখল এক স্বপ্ন। স্বপ্নে সে যোদ্ধা। প্রচণ্ড শক্তি তার। অগ্নির সাগরে লড়ছে। এক ইশারায় আগুনের ঢেউ। উত্তপ্ত সমুদ্র উলটে যাচ্ছে। স্বপ্নের সুলো বারে বারে শত্রু নিধন করছে। তার শক্তি বাড়ছে। আগুনের সাগর উত্তাল হচ্ছে।

হঠাৎ বিপর্যয়। আগুনের সাগর উর্ধ্বমুখী। আকাশ জ্বলে উঠল। চারদিক শুধু লাল। আগুনের সাগরে সবাই নিমজ্জিত। আগুন থামল। আকাশ তখনও লাল। লড়াই করা সবাই অন্তর্হিত। শুধু অগ্নিতে পুড়ে যাওয়া জায়গায় কালো এক দাগ—যেন লাল রঙের ক্যানভাসে কেউ কালো রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে।

হলুদ বালির ওপর শুয়ে ছিল একটি দেহ। দেহটা নড়ল। সুলোর চোখ খুলল। মাথাটা ধাঁ ধাঁ করছে। একটু পর ধীরে ধীরে মনে পড়ল—সে সমুদ্রের ধারে হাঁটছিল। তারপর অদ্ভুত গন্ধ। তারপর শরীর গরম হয়ে যাচ্ছিল। তারপর যেন পুড়ে মরেছে।

"মরি নাই। আমি মরি নাই। বেঁচে আছি। হা হা হা।"

সুলো নিজের মুখ টিপে দেখল। পেট, পা সব অক্ষত।

"জামা-কাপড় আছে। চুলও আছে।" অবাক লাগছে তার। মনে হচ্ছিল চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো গরম ছিল। কীভাবে জামা-কাপড় পোড়েনি?

ভাবতে না পেরে ভাবনা ছেড়ে দিল। বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। এবার সে মৃত্যু স্বাদ পেয়েছে। সেটাও পোড়ার মৃত্যু। মৃত্যুর পর সব যেন হালকা লাগছে। যোদ্ধা হওয়া না হওয়া আর তেমন জরুরি মনে হচ্ছে না। আর আধ্যাত্মিক বস্তু পেলেও তো শতভাগ সফলতা নেই। ভাবতেই মনটা শান্ত হল।

সুলো উঠে বালি ঝেড়ে নীল ব্যাগটা তুলল। হাত দিয়ে ব্যাগের হাতল ধরে সামান্য জোরে টানতেই ব্যাগ উঠে গেল।

"কী!" সে চমকে উঠল। ব্যাগটা ভর্তি ছিল বারো-তেরো কেজি বই। সকালে কাঁধে নিয়ে কষ্ট হয়েছিল। এখন এক হাতে যেন এক-দুই কেজির জিনিস তুলছে।

আরেক অদ্ভুত ব্যাপার দেখল। অজ্ঞান হওয়ার আগে প্রায় অন্ধকার হয়ে এসেছিল। অজ্ঞান অবস্থায় সে কয়েক ঘণ্টা পড়েছিল। বেশি হলে ভোর হত। কিন্তু ভোর হলে তাকে পুলিশ খুঁজে পেত। এখনও রাত। তারপরও সে দূরের জিনিস দেখতে পাচ্ছে। ব্যাগটা হাতে নিয়ে সে ভ্রু কুঁচকাল। এটা তার ভাবার সময়ের অভ্যাস।

"শক্তি বেড়েছে। রাতে দেখার ক্ষমতাও হয়েছে..." সুলোর হৃৎপিণ্ড জোরে ধক ধক করতে শুরু করল। কারণ তত্ত্বের ক্লাসে সে বারবার শুনেছে—শরীরে হঠাৎ এমন পরিবর্তন আসার অর্থ কী।

তার ঠোঁট কাঁপছে। "এটা কি আধ্যাত্মিক দেহ সৃষ্টির সফলতা?"

হ্যাঁ, সুলো নিশ্চিত হল। সে আধ্যাত্মিক দেহ তৈরি করতে পেরেছে। সে এখন প্রথম স্তরের যোদ্ধা।

অনেকবার কল্পনা করেছে—হাতে আধ্যাত্মিক বস্তু নিয়ে আধ্যাত্মিক দেহ গঠন করবে, যোদ্ধা হবে, চারদিক তার নাম। সে ভাবত সফল হবেই। হয়তো এটা ছিল একধরনের গোঢ় আত্মবিশ্বাস, কিংবা ব্যর্থতার মুখ দেখতে না চাওয়ার মানসিকতা।

সেদিন সকালে নিয়তি যেন তার সঙ্গে ঠাট্টা করল। তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিল। তাকে নামিয়ে দিল জীবনের নিম্নতম বিন্দুতে। বাধ্য করল যোদ্ধা হওয়ার পথ ছেড়ে দিতে। যখন ধীরে ধীরে সেটা মেনে নিচ্ছিল, তখন বাস্তব তাকে বলল—সে শুধু যোদ্ধা হওয়ার পথ হারায়নি, বরং একধাপ এগিয়ে প্রথম স্তরের যোদ্ধা হয়ে গেছে। নিয়তি যেন তার সঙ্গেই ঠাট্টা করল।

উত্তেজনার পর সুলো নিজের শরীরের ভিতরে দৃষ্টি দিল। যোদ্ধা হওয়ার পর প্রত্যেকের এই ক্ষমতা আসে। আধ্যাত্মিক দেহ গঠনের প্রথম ধাপে আধ্যাত্মিক বস্তু ত্বকের রন্ধ্রগুলো পরিবর্তন করে—আকৃতি নয়, সহনশীলতা। আধ্যাত্মিক শক্তির আঘাত সহ্য করার মতো। এতে ত্বকের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, সঙ্গে শক্তিও বাড়ে। এটাই প্রথম স্তরের যোদ্ধার বৈশিষ্ট্য। ছুরির আঘাতেও প্রথম স্তরের যোদ্ধার চামড়া ফোটে না।

শক্তির পরিমাণ আধ্যাত্মিক বস্তুর প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। নতুন যোদ্ধাদের শক্তি সাধারণত ২৫-৫০ কেজি বাড়ে। চর্চার মাধ্যমে তা আরও বাড়ে, তবে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে আধ্যাত্মিক বস্তু।

সব ক্ষেত্রে এ নিয়ম খাটে না। সুলোর জানা কয়েকটি ব্যতিক্রম আছে।

আধ্যাত্মিক বস্তু সাধারণত আধ্যাত্মিক শক্তির ঘনীভূত উপাদান। সাধারণ প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে পাঁচ মৌল—সোনা, কাঠ, পানি, আগুন, মাটি। সরকারি দোকানে এগুলোর দাম ১০-২০ হাজার ইউয়ান।

বিশেষ প্রকৃতির মধ্যে আছে বায়ু, বজ্র, বরফ—এগুলো বিরল। এতে তৈরি আধ্যাত্মিক দেহের চর্চার গতি ও শক্তির সীমা সাধারণ প্রকৃতির চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে এগুলোর দামও বেশি—সবচেয়ে সস্তা বিশেষ প্রকৃতির আধ্যাত্মিক বস্তুর দাম ১০০ হাজার ইউয়ানের বেশি।

আধ্যাত্মিক বস্তু ত্বক পরিবর্তনের পর পেটের গহ্বরে একটি ছোট জায়গা তৈরি করে। সেখানে বস্তুটি অবস্থান নেয়। তারপর ধীরে ধীরে দেহের অন্যান্য অংশ পরিবর্তন করতে থাকে। প্রথমে ত্বক। এ সময় যোদ্ধা বাতাস থেকে আধ্যাত্মিক শক্তি সংগ্রহ করে বস্তুটিকে শক্তি জোগায়। আধ্যাত্মিক দেহ গঠনে ব্যর্থতা মানে এই জায়গাটি তৈরি না হওয়া। তখন বস্তুটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সুলোর মনোযোগ তখন পেটের গহ্বরে। সেখানে অন্ধকার। দশ হাত পরিমিত একটি জায়গা।

"কী! কিছুই তো নেই!" সুলো অবাক হল। "এটা তো ঠিক না। জায়গা তো তৈরি হয়েছে।"

বারবার খুঁজে সে এক অদ্ভুত জিনিস পেল। অন্ধকারের মাঝে খুব সূক্ষ্ম কম্পন। মনোযোগ দিতেই অনুভব করল তীব্র দহনের মতো এক উষ্ণতা প্রবাহিত হচ্ছে। সঙ্গে এল এক তথ্য।

বায়ু-প্রকৃতির আধ্যাত্মিক বস্তু—নিষিদ্ধ বায়ু (শান্ত বায়ু)। ধ্বংসের শূন্যের নিষিদ্ধ উপাদান। এর বাতাসের সঙ্গে আসে অস্থিমজ্জা শুকানো উত্তাপ। যেখানে প্রবাহিত হয়, সেখানে জীবনের বিলুপ্তি।

তথ্যের সঙ্গে এল এক স্মৃতির অংশ। এই নিষিদ্ধ বায়ু একসময় বেরিয়ে এসেছিল শক্তিশালী যুদ্ধের ফলে খোলা শূন্যস্থান থেকে। তখন অনেক মানুষ এর সংস্পর্শে এসে ধ্বংস হয়েছিল। সুলোর মনে ভেসে আসা স্মৃতির অংশগুলো ছিল তাদের রক্তের কণার স্মৃতি। পরে নিষিদ্ধ বায়ু তাদের রক্ত কণা নিয়ে শূন্যে হারিয়ে যায়। শূন্যে ঘুরতে ঘুরতে তার শক্তি ক্ষয় হয়, রক্তকণার শক্তিও ধীরে ধীরে শেষ হয়। তখন নিষিদ্ধ বায়ু পৃথিবীর কাছাকাছি আসে। আধ্যাত্মিক শক্তির টানে পৃথিবীতে আসে। আর সুলোর মুখোমুখি হয়।

এটা সুলোর কাছে বড় বিস্ময়। সে আগুনের বস্তু ভেবেছিল। পাওয়া গেল বায়ুর বস্তু।

নিষিদ্ধ বায়ুর নাম সে আগে শোনেনি। তার জানা বায়ুর বস্তু হলো বালির বায়ু ও ঘূর্ণি বায়ু—এগুলো বাজারে দেখা যায়। সবচেয়ে সস্তা বালির বায়ুর দাম প্রায় ৭৫ হাজার ইউয়ান। ঘূর্ণি বায়ু তার চেয়েও বেশি। নিষিদ্ধ বায়ুর মূল্য কল্পনা করা যায়। এর পরিচিতি থেকে বোঝা যায়—একবার সংস্পর্শে এলে শক্তিশালী যোদ্ধারাও ধ্বংস হয়ে যায়। এর মানে এই বস্তু অসাধারণ।

সুলো স্মৃতির অংশগুলো আরও দেখল। সেগুলো ছিল খণ্ড খণ্ড দৃশ্য। যেখানে অগ্নির সাগরের মধ্যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করছে—ধ্বংসলীলা।

---

যদি চান, পুরো অধ্যায়টি আরও সংক্ষেপে বা আরও বিস্তারিতভাবে অনুবাদ করে দিতে পারি। এছাড়া শুধু নির্দিষ্ট অংশের অনুবাদ জানতে চাইলে জানাতে পারেন।