নবম অধ্যায় প্রকৃত যোদ্ধার জগৎ

নিষিদ্ধের উত্থান বাহান্ন হার্টজ 4544শব্দ 2026-02-09 03:40:12

জাও গ্যাং ধীরে ধীরে চা থেকে একটি ছোট চুমুক নিলেন, মুখে রেখে, জিভের ডগা দিয়ে উপরের তালু ছুঁয়ে, চায়ের স্বাদ গলায় ধীরে ধীরে নামিয়ে দিলেন, মুখভর্তি সুবাস ছড়িয়ে পড়ল। তিনি চায়ের কাপটি টেবিলে নামিয়ে রাখলেন।
জাও গ্যাং গম্ভীর মুখে বললেন, ‘‘নগর নিরাপত্তাকর্মী, নামেই বোঝা যায় এরা এই শহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত, এটি কেবলমাত্র যোদ্ধাদের জগতে বিদ্যমান এক পেশা।’’
‘‘সাধারণ মানুষরা সাধারণত এই পেশা বা এর সম্পর্কিত কোনো কিছু জানার সুযোগ পায় না।’’
সু লো প্রশ্ন করল, ‘‘তাহলে আপনি বলতে পারেন এই পেশার কাজটা কী? শহর পাহারা দেওয়া?’’
‘‘একটু ধৈর্য ধরো, আমি ধীরে ধীরে সব বলছি।’’ জাও গ্যাং আবারও নিশ্চিন্তে চা পান করলেন।
তিনি ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন, ‘‘তুমি ভুল বলোনি, নগর নিরাপত্তাকর্মী শব্দের আক্ষরিক অর্থই তাদের কাজ, অর্থাৎ শহর রক্ষা করা। পুরো দেশে এমন পেশা রয়েছে, তাদের উপস্থিতি মানে শহরের প্রতিটি মানুষকে রক্ষা করার জন্যই।’’
‘‘আচ্ছা!’’ সু লো হঠাৎ বলল, ‘‘আপনি কি পুলিশের কথা বলছেন?’’
জাও গ্যাং কিছুটা থেমে, সু লোর দিকে কড়া চোখে তাকালেন, এবার আর কোনো ভান করলেন না, গম্ভীরভাবে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘সু লো, তুমি কি সত্যিকারের যোদ্ধাদের জগৎ সম্পর্কে জানো?’’
জাও গ্যাংয়ের মুখের মনোযোগী ভাব দেখে সু লো একটু দ্বিধায় মাথা নাড়ল।
‘‘সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে, যোদ্ধা নামে পরিচিত এই পরিচয়টি প্রায় তিরিশ বছর আগে শুরু হয়, যখন হুয়া শা দেশের সব প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হয়ে মার্শাল আর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী যোদ্ধা গড়ার পরিকল্পনা শুরু হয়,’’ জাও গ্যাং স্মৃতিচারণায় মগ্ন হলেন।
‘‘তুমি কি জানো, যোদ্ধারা আসলে সব সময়ই ছিল? তুমি কি প্রাচীন কালের মার্শাল হিরোদের কথা শুনেছ? সিনেমায় দেখানো সেই দেয়াল বেয়ে ওঠা বা খালি হাতে বাঘ মারা–এসব আসলে সত্য ঘটনা, সেটাই ছিল প্রাচীন যোদ্ধাদের ক্ষমতা।’’
‘‘তবে তখন পৃথিবীতে আত্মিক শক্তি ছিল না, তাই যোদ্ধারা বিশেষ উচ্চ স্তরে উন্নীত হতে পারত না, বেশিরভাগই মধ্যম স্তরের নিচে থেকে যেত, আত্মিক শক্তি বাইরে প্রকাশ করত না, কেবল দেহের শক্তিই ব্যবহার করা যেত।’’
‘‘সেই সময় যোদ্ধারা ত্বক পরিবর্তনের জন্য কোনো আত্মিক বস্তু পেত না, কেবল শত শত বছর পুরোনো মূল্যবান ভেষজ দিয়ে দেহের শক্তি বাড়িয়ে আস্তে আস্তে চর্চা শুরু করত।’
‘‘শোনা যায়, কোনো কোনো পুরোনো যোদ্ধা প্রবল দেহশক্তি দিয়ে তৃতীয় স্তরের বাধা অতিক্রম করে চতুর্থ স্তরে গিয়েছিল, তবে সেসব কেবল কিংবদন্তি, কেউ সত্যিই দেখেনি।’
জাও গ্যাং আরও বললেন, ‘‘আমরা যে প্রাথমিক মার্শাল আর্ট শেখাই, তার অনেকটাই প্রাচীন যুগের যোদ্ধাদের কাছ থেকে এসেছে। যেমন আমি তোমাদের তিন রাস্তার লং ফিস্ট আর আট ভাগের ব্যায়াম শেখাই—এসব কেবল দেহশক্তি ব্যবহার করা যায়, আমরা এগুলোকে বলি ‘অখ্যাত যুদ্ধকৌশল’।’’
‘‘তবে ছোট করে দেখো না, এখনকার সব উচ্চস্তরের আত্মিক মার্শাল আর্টের ভিত্তি এগুলিই, আত্মিক শক্তির সঙ্গে মেলানো হয়েছে।’’
‘‘যখন আত্মিক শক্তি পুনরুদ্ধার হল, কেউ কেউ আত্মিক বস্তু গ্রহণ করে মধ্যম স্তরের যোদ্ধা হয়ে দেখল, দেহে আত্মিক শক্তি ছড়িয়ে যায়, তখন যুদ্ধকৌশল উন্নয়ন শুরু হয় আত্মিক শক্তির উপযোগে—সবই সেই প্রাচীন মার্শাল আর্টের ভিত্তিতে।’’
‘‘এরপর আত্মিক মার্শাল আর্ট এত শক্তিশালী হয়ে উঠল যে পুরোনো মার্শাল আর্ট শুধু দেহশক্তির জন্য ব্যবহৃত হতে লাগল, কেবল নবীন যোদ্ধা আর সাধারণ মানুষের চর্চার জন্য।’’
‘‘মধ্যম ও উচ্চস্তরের যোদ্ধারা আর সেসব ব্যবহার করে না, কারণ আত্মিক শক্তি দেহশক্তির চাইতে অনেক বেশি।’
এত বলার পর জাও গ্যাংয়ের কণ্ঠে একরকম আক্ষেপ ঝরে পড়ল, ‘‘আত্মিক শক্তির পুনরুত্থান, আত্মিক বস্তু আবিষ্কার নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী অগ্রগতি, অনেককে যোদ্ধা হবার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু আমার মতে এতে কিছুটা চাতুর্য আছে।’’
‘‘প্রাচীন কালে যোদ্ধারা একে একে দেহশক্তি বাড়াত, কষ্টকর মার্শাল আর্ট চর্চা করত, তারপর যোদ্ধা হতো।’’
‘‘এখন কেবল তোমার দেহশক্তি বা যাকে আমরা বলি শারীরিক সামর্থ্য, যদি আত্মিক বস্তুর প্রবল শক্তি সহ্য করতে পারে, তাহলে ত্বক একবারেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে।’’
‘‘ফলে এখনকার অনেক নতুন যোদ্ধা কেবল ফাঁপা কাঠামো, শক্তি আছে, কিন্তু ব্যবহার জানে না।’’
জাও গ্যাং নিজের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে বলছিলেন, সু লো মুগ্ধ হয়ে শুনছিল, এসব গোপন কথা ও অভিজ্ঞতা অমূল্য।
এসব বইয়ে লেখা নেই, বড়ই মূল্যবান, সু লো চুপচাপ শুনছিল, আর কোনো প্রশ্ন করছিল না।
‘‘ঠিক আছে, আবার কিছুটা বেশি বলে ফেললাম, এবার চল বর্তমান যোদ্ধাদের জগতের কথা বলি,’’ জাও গ্যাং প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললেন।
তিনি শুকনো ঠোঁট চেটে নিয়ে আরেক চুমুক চা খেলেন, তারপর বললেন, ‘‘এখন হুয়া শার যোদ্ধার সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে, কারণ আত্মিক শক্তির পুনরুদ্ধারে প্রচুর আত্মিক বস্তু পাওয়া যাচ্ছে।’’

‘‘কিন্তু পৃথিবীতে কেবল মানুষই নয়, আত্মিক শক্তি পুনরুদ্ধারের লাভবান হচ্ছে নানা প্রাণী ও উদ্ভিদও, আর প্রাণীর সবচেয়ে বেশি বাস সমুদ্রে, গাছপালার সবচেয়ে বেশি বনভূমিতে।’’
জাও গ্যাং সু লোর দিকে তাকালেন, ‘‘তুমি কি মনে আছে এগারো বছর আগে, সরকার এক নতুন নীতি দিয়েছিল, দেশের সব গ্রামাঞ্চলের মানুষকে শহরে এনে বসাতে, এবং এই নীতিটা বাধ্যতামূলক ছিল, তাই তো?’’
‘‘হ্যাঁ!’’ সু লো মাথা নাড়ল, তার এখনও মনে আছে, কারণ তখন সরকার অনেক নতুন বাড়ি বানিয়েছিল, মাছের সাগর শহরের জনসংখ্যা হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল।
সেই সময় দরকারি জিনিসের দামও বেড়ে গিয়েছিল, তখন সু লো আর সু ইউয়ে ছিল ছোট, সু শিং তখন সদ্য জন্মেছিল, সু লোর বাবা সু দা ফাং সংসার চালাতে রাতের শিফটে চাকরি নিয়েছিলেন।
জাও গ্যাং আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তুমি কি জানো কেন সরকার এমন নীতি দিল? এতে সময়ও, টাকাও দুটোই নষ্ট হয়।’’
সু লো একটু ভেবে উত্তর দিল, ‘‘সম্ভবত প্রাণী-উদ্ভিদে পরিবর্তন হয়েছিল, ওরা গ্রামের মানুষদের আক্রমণ করত, তাই সবাইকে শহরে নিয়ে আসা হয়েছিল।’’
তবে সঙ্গে সঙ্গে সে আবার দ্বিধায় পড়ে গেল, ‘‘কিন্তু আত্মিক শক্তির পুনরুদ্ধার তো তারও আগে হয়েছিল, তাহলে দশ বছর আগে কেন প্রাণী পরিবর্তিত হয়ে মানুষ আক্রমণ শুরু করল?’’
‘‘এর পেছনে অনেক জটিল কারণ আছে,’’ জাও গ্যাং শান্তভাবে বললেন, ‘‘আমি তোমাকে শুধু একটি কারণ বলছি, তখন আত্মিক শক্তি ফিরে আসার পর পরিবর্তিত প্রাণী-উদ্ভিদ প্রায় সবই বন্য ছিল।’’
‘‘হতে পারে মানুষের পোষা প্রাণীর সাথে সম্পর্ক আছে, কিংবা যোদ্ধাদের চর্চার জন্য মানুষের এলাকায় আত্মিক শক্তি দ্রুত কমে আসে, ফলে মানুষের এলাকায় প্রাণী-উদ্ভিদের পরিবর্তন খুব কম হয়, প্রায় নেই বললেই চলে।’’
‘‘তাই এসব পরিবর্তিত প্রাণী-উদ্ভিদ মূলত গভীর অরণ্যে ছিল, আত্মিক শক্তির পুনরুদ্ধার শুরু হতেই সরকার তা বুঝে গিয়েছিল।’’
তখন সরকার সশস্ত্র বাহিনী পাঠিয়ে পাহাড়-জঙ্গলে পাহারা বসাল, যাতে পরিবর্তিত প্রাণী বাইরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলতে না পারে।
‘‘আর পৃথিবীতে আত্মিক শক্তি বাড়তে থাকায়, সাধারণ পাহাড়-জঙ্গলে থাকা বন্য প্রাণীরাও পরিবর্তিত হতে শুরু করল।’’
‘‘কিন্তু এত বড় এলাকা আর এত প্রাণীর জন্য পুরোটা পাহারা দেওয়া সম্ভব ছিল না, তাই গ্রামবাসীদের শহরে এনে একত্র করা ছাড়া উপায় ছিল না।’’
‘‘তাহলে ওদের মেরে ফেলা যায় না কেন?’’ সু লো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
জাও গ্যাং হাসলেন, ‘‘তুমি যদি একবার পরিবর্তিত অরণ্য দেখো, তাহলে আর এমন কথা বলতে না।’’
‘‘প্রত্যেকটি অরণ্যে ভয়ংকর সব প্রাণী আছে, আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র ওখানে খুব একটা কাজ করে না।’’
‘‘অবশ্য পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করলে নিশ্চিহ্ন করা যায়, কিন্তু তখন তো পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।’’
জাও গ্যাং একটু থেমে আবার বললেন, ‘‘গ্রামগুলো শহরে মিশে গেল, এরপর অরণ্যে অবস্থানরত সেনাবাহিনী শহরের বাইরে এসে ক্যাম্প করল, শহর রক্ষার জন্য।’’
‘‘এটাই কি শিক্ষক আপনি বলেছিলেন, নগর নিরাপত্তাকর্মী?’’ সু লো জানতে চাইল।
জাও গ্যাং মাথা নাড়লেন, গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘‘না, সেনাবাহিনী সেনাবাহিনীই, ওরা শহরের বাইরে পাহারা দেয়, আর নগর নিরাপত্তাকর্মীরা শহরের ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্বে।’’
‘‘যদিও বেশিরভাগ পরিবর্তিত প্রাণী শহরের বাইরে আটকে থাকে, কিছু বিশেষ প্রাণী সেনাবাহিনীর বাধা টপকে শহরে ঢুকে পড়ে।’’
‘‘সবচেয়ে সাধারণ হলো মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খোঁড়া প্রাণী, আর এদের মোকাবিলায় সাধারণ অস্ত্র তেমন কাজ করে না, তখন যোদ্ধাদেরই প্রয়োজন হয়।’’
‘‘পুলিশ সাধারণ মানুষ, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে, কিন্তু নগর নিরাপত্তাকর্মী হচ্ছে যোদ্ধা, তাদের কাজ শহরের ভেতর টহল দিয়ে পরিবর্তিত প্রাণী খুঁজে বের করে মেরে ফেলা।’’
জাও গ্যাং সু লোর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘এবার তো বুঝতে পারছো পুলিশ আর নগর নিরাপত্তাকর্মীর পার্থক্য!’’ সে এখনও মনে রেখেছে সু লো একটু আগে তাকে লজ্জা দিয়েছিল।
সু লো বুঝল জাও গ্যাং এর কথার অর্থ, সে নিরীহভাবে মাথা নাড়ল, ‘‘তাই তো, তাই এখন একা বাইরে যেতে দেয় না, অন্য শহরে যাওয়ার জন্যও টিকিট কেটে বিশেষ বাসে যেতে হয়।’’

‘‘এমনকি সম্প্রতি অনলাইনে শোনা যাচ্ছে, সরকার নতুন নিয়ম আনতে যাচ্ছে, যাতে ফ্ল্যাটে বড় প্রাণী পোষা নিষেধ—এটাও কি ওই কারণেই? যাতে পোষা প্রাণী পরিবর্তিত হয়ে বিপজ্জনক না হয়।’’
‘‘ঠিক বলেছ,’’ জাও গ্যাং উত্তর দিলেন, ‘‘ভবিষ্যতে পৃথিবীর আত্মিক শক্তি আরও ঘন হবে, ঘরোয়া প্রাণী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম হলেও, একদম নেই নেই বলা যায় না।’’
‘‘তাই সরকার চায় কোনোভাবেই পরিবর্তিত প্রাণী যেন না জন্মে, তাই হয়তো ভবিষ্যতে জনবহুল জায়গায় পোষা প্রাণী রাখা নিষিদ্ধ হবে।’’
‘‘তোমার উপযোগী যে কাজের কথা বলছিলাম, সেটাও পরিবর্তিত প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত,’’ জাও গ্যাং ঠোঁটে রহস্যময় হাসি নিয়ে বললেন।
সু লো বিস্মিত হয়ে বলল, ‘‘তাহলে কি আমাকে নগর নিরাপত্তাকর্মী হয়ে পরিবর্তিত প্রাণী মারতে পাঠাবেন?’’
‘‘তুমি কী ভাবো?’’ জাও গ্যাং অপ্রসন্ন মুখে বললেন, ‘‘তোমার মতো সদ্য যোদ্ধা হওয়া নবীন ছেলের পক্ষে তো সবচেয়ে দুর্বল পরিবর্তিত প্রাণীকেও হারানো কঠিন, মারার কথা চিন্তা করো না, নিজে বাঁচতে পারলেই ভালো!’’
‘‘তোমার জন্য উপযুক্ত কাজটা সেটা নয়, তবে সম্পর্ক আছে—এটি নগর নিরাপত্তাকর্মীর বাহ্যিক কর্মী, যাদের কাজ শহরজুড়ে টহল দেওয়া।’’
‘‘যদি কোনো পরিবর্তিত প্রাণী দেখতে পাও, তখনই আসল নগর নিরাপত্তাকর্মীকে খবর দেবে—এটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মজুরি অনেক বেশি, প্রতিবার একটি পরিবর্তিত প্রাণী শনাক্ত করলে পাঁচ হাজার টাকা, আর যদি মারতে না পারো, তবুও এক হাজার টাকা পুরস্কার।’’
‘‘আজ রাতেই তোমাকে থানায় নিয়ে যাব, দেখি তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারো কিনা, কারণ সব যোদ্ধার পক্ষে এই কাজ সম্ভব নয়, যারা পরিবর্তিত প্রাণী দেখলেই ভয়ে কাঁপে, তাদের নিলে তো তারা মরবেই, অনেক বড় ক্ষতিও হতে পারে।’’
সু লো সব বুঝল, তারপর মনে পড়ল, ‘‘শিক্ষক, আপনি বলেছিলেন সমুদ্রে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত প্রাণী, অথচ আমাদের মাছের সাগর শহরের পাশে তো সমুদ্র রয়েছে, কিন্তু এখানে তো কোনো বিপদ শুনিনি বা দেখিনি?’’
জাও গ্যাং বললেন, ‘‘আমাদের এখানে কেবল উপকূল, গভীর সমুদ্র নয়। তুমি জানো না, আমাদের দেশের অগণিত যুদ্ধজাহাজ আর উচ্চস্তরের যোদ্ধা গভীর সমুদ্র পাহারা দেয়, যাতে সমুদ্রের ভয়ংকর পরিবর্তিত প্রাণীরা বাইরে না আসতে পারে।’’
‘‘তবুও এটা কেবল প্রতিরক্ষা, আক্রমণ করতে গেলে, আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রও সমুদ্রে বিশেষ কাজ করে না, উল্টো গভীর সমুদ্রের ভয়ংকর প্রাণীদের ক্ষিপ্ত করতে পারে, তাই আমাদের দেশের সর্বোচ্চ কৌশল পরিবর্তিত প্রাণীদের বহিঃসমুদ্রে আটকে রাখা।’’
‘‘অবশ্য, সমুদ্র এত বিশাল যে শতভাগ রক্ষা অসম্ভব, তাই অভ্যন্তরীণ সমুদ্রেও যুদ্ধজাহাজ আর যোদ্ধারা নিয়মিত টহল দেয়, যাতে কোনো পরিবর্তিত প্রাণী ভেতরে ঢুকে না পড়ে।’’
‘‘এছাড়া পরিবর্তিত প্রাণীদের কিছুটা বুদ্ধি থাকে, ওরা পূর্বের পশু প্রবৃত্তি ধরে রাখে, বিপদ এড়িয়ে চলে।’’
‘‘তবে যদি কেউ-কেউ ফাঁকি দিয়ে উপকূলে আসে, ওরা দিনে বেরোয় না, সাধারণত রাতেই কার্যক্রম চালায়—এ কারণেই আমি রাতে তোমাকে পরীক্ষায় নিতে চাই, কারণ নগর নিরাপত্তাকর্মীদের কাজ রাতেই শুরু হয়।’’
এবার সু লো সব বুঝে গেল, মনে পড়ল অনেক অস্বাভাবিক ঘটনা, যেমন সকালে পুলিশ সমুদ্রতটে টহল দেয়, কখনও শোনা যায় শহরের কোথাও ‘গ্যাং’দের লড়াই, দোকানপাট ভেঙে গেছে।
এখন বোঝা গেল, আসলে এত ‘গ্যাং’ নেই, কখনও সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়নি, বরং ওই লড়াই নগর নিরাপত্তাকর্মী যোদ্ধা আর পরিবর্তিত প্রাণীর মধ্যে।
ঠিক খবর বাইরে যায় না, হয় প্রাণী মারতে পেরেছে, নয়তো পুলিশ ঘটনা চেপে গেছে।
জাও গ্যাং ও সু লো অনেক কথা বললেন, প্রথমে কেবল সু লো মন দিয়ে শুনছিল, পরে ঝাও শিনও এসে যোগ দিল ক্লাসে।
কারণ সে আগে এসব কিছুই জানত না, দু’জনেই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল পুরোনো অজানা কথা।
জাও গ্যাং বললেন, ‘‘আসলে এসব বিষয়, তোমরা মার্শাল আর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে ধীরে ধীরে জানতে পারবে। এসব যোদ্ধাদের কাছে গোপন কিছু নয়।’’
‘‘সু লো, তুমি এখন একজন যোদ্ধা, তাও আবার বায়ু উপাদানসম্পন্ন, আর শিনশিন, আমি চাই আগামী বছর তোমার আত্মিক চর্চা শুরু করো—তাই এসব আগেভাগে বলে রাখলাম।’’
সু লো একটু লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকে হাসল, ‘‘শিক্ষক, আমাকে ছোট লো বললেই ভালো, বাড়িতে বাবা-মাও আমাকে তাই ডাকে, আমরা এত আপন, সু লো বলে ডাকলে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে!’’